(ঙপপঁঢ়ু ডধষষ ঝঃৎববঃ) আন্দোলনের ডাকে প্রথমে কয়েকশ বিক্ষোভকারী ওয়াল স্ট্রিটের কাছে একটি ছোট পার্কে তাঁবু গেড়ে প্রতিদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। সম্প্রতি বিÿোভকারীর সংখ্যা বেড়ে কয়েক হাজারে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমেরিকার বিভিন্ন শহরে, ছোট-বড় প্রায় আড়াইশ শহরে এ বিÿোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক ও পেশাজীবী ইউনিয়ন, ছাত্র-শিÿক এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। ওয়াল স্ট্রিট ও কর্পোরেটবিরোধী এ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক সংকট, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং মার্কিন ধনিক গোষ্ঠী ও কর্পোরেট হাউজের বিরম্নদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ÿোভের বহিঃপ্রকাশ।
আমেরিকায় ২০০৭ সাল থেকে অর্থনৈতিক মন্দা তীব্র রূপ নিয়েছে। মুনাফার সীমাহীন লোভে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ-ব্যবসায় (বিশেষত হাউজিং খাতে) অনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেউলিয়া হবার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছিল বড় বড় ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। মার্কিন সরকার তাদের রÿায় সাধারণ মানুষের করের টাকা থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার আর্থিক প্রণোদনা দেয় যা 'বেইল আউট' কর্মসূচি নামে পরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের সীমাহীন মুনাফার লালসা লাখ লাখ মানুষকে গৃহহীন করেছে, বেকারত্বের পথে ঠেলে দিয়েছে। আমেরিকায় বেকারত্বের হার বর্তমানে সরকারি হিসাবে ৯% ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি ৭টি পরিবারের মধ্যে ১টি পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নেই। অন্যদিকে মাত্র ১ শতাংশ মার্কিন ধনী নিয়ন্ত্রণ করেছে আমেরিকার ৩৮% সম্পদ। এখান থেকেই শেস্নাগান উঠেছে 'আমরাই ৯৯%'। অর্থনৈতিক সংকটে দেশের বেশিরভাগ মানুষ ÿতিগ্রস্ত্ম হলেও ধনিক গোষ্ঠী আর বৃহৎ কর্পোরেশনগুলোর মুনাফা বাড়ছে, কর্পোরেশন পরিচালকদের বেতন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ক্রমাগত আকাশচুম্বী হচ্ছে। মার্কিন সরকার কোটিপতিদের কর রেয়াত দিচ্ছে। অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি ও রাষ্ট্রীয় ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কথা বলে ওবামা সরকার জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় হ্রাস করছে। অথচ মার্কিন সামরিক শিল্প, তেল কোম্পানি ও বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোর স্বার্থে লিবিয়া-ইরাক-আফগানিস্ত্মানসহ বিভিন্ন দেশে ব্যয়বহুল যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। প্রধান দুই দল - রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট - উভয়েই রÿণশীল ও উদারনৈতিক শেস্নাগানের আড়ালে মার্কিন ধনিক গোষ্ঠীর সেবা করে চলেছে।
এরকম অবস্থায় ÿুব্ধ মার্কিন জনসাধারণ নেতৃত্ববিহীন অসংগঠিত বিÿোভে ফেটে পড়েছে। দেশটির বাম-গণতান্ত্রিক শক্তিও ওই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। 'অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট' আন্দোলনের কোনো সুনির্দিষ্ট দাবিনামা নেই, মানুষের ÿোভকে তা তুলে ধরছে মাত্র। কিন্তু এই আন্দোলনের অন্ত্মনিহিত তাৎপর্য ধনিকগোষ্ঠীর শোষণ-লুটপাট ও সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজদের কবল থেকে জনগণের মুক্তির আকাঙ্ÿার মধ্যে নিহিত। আন্দোলনের ফল যাই হোক, নিশ্চয়ই তা মার্কিন জনসাধারণের রাজনৈতিক চেতনা ও সংগ্রামী ঐক্যকে শানিত করবে। আমরা আশা করি, অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তারা বুঝতে পারবেন আন্দোলনকে চূড়ান্ত্ম পরিণতিতে নিয়ে যেতে হলে চাই সঠিক আদর্শ, উপযুক্ত নেতৃত্ব ও শক্তিশালী সংগঠন। শেষপর্যন্ত্ম পুঁজিবাদ বিরোধী সমাজতান্ত্রিক বিপস্নবের মধ্যেই মার্কিন জনগণের মুক্তির আকাঙ্ÿা বাস্ত্মব রূপ পাবে।











